Saturday, November 30, 2024

বাংলাদেশের জন্য কেমন সংবিধান চাই

বাংলাদেশের জন্য কেমন সংবিধান চাই

ফজলুস সাত্তার

সংবিধান পূর্ণ:লিখুন না সংবিধান সংশোধন:বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে প্রতিফলন ঘটেনি জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তির। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে জনগণের অধিকার রক্ষার পরিবর্তে এই সংবিধান পরিনত হয়েছে স্বৈরশাসন, কতৃত্ববাদ এবং ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখার হাতিয়ারে। ১৯৭১ সালের ২৬৬ দিনের রক্তাক্ত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২সালের ২২ মার্চের সংবিধান সভা অধ্যাদেশের আওতায় একই বছরের ১১ এপ্রিল গঠিত ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির লিখিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান গণপরিষদ  কতৃক নভেম্বর ১৯৭২ গৃহীত হয়।  যা ৭২ এর সংবিধান হিসেবে খ্যাত। পরস্পর বিরোধী অসংখ্য অসংগতিত ভরপুর এই সংবিধানটিতে পর্যন্ত সংশোধনী আনা হয়েছে ১৭ বার।। ১৯৭২ এর সংবিধানকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দলিল হিসেবে অভিহিত করলেও বাস্তবে এই সংবিধানে ২৬৬ দিনের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কোন উল্লেখ নেই। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনা অংশে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়টি সংযোজন করেন।কিন্তু পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে তা রহিত করেন।

বর্তমান সংবিধান ব্যবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিবর্তে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি  কাল্ট সৃষ্টি করা হয়েছে। যেখানে গণতন্ত্র মুক্ত চিন্তার কোন জায়গা নেই।গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। এমনকি নির্মোহ  ভাবে  দেশের ইতিহাস চর্চার পথও রুদ্ধ। দেশের লাখো শহীদের রক্ত মা-বোনের লাঞ্ছনা এবং ১৮ কোটি মানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে এই সংবিধানকে পরিণত করা হয়েছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব, তার পরিবার এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার রক্ষাকবচে। সে কারণেই বর্তমান সংবিধানকে আমুল পরিবর্তন করে একটি সত্যিকারের জনগণের অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য বর্তমান সংবিধানের সংশোধন নয়, পূর্ণ লিখন প্রয়োজন।

সংবিধানের মূলনীতি: বাংলাদেশের নতুন সংবিধানের মূলনীতি হবে সুযোগের সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচার, জনগণের অংশীদারিত্ব ভিত্তিক গণতন্ত্র এবং ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ২০২৪ এর জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্য বিরোধী মূল চেতনা এবং মানবাধিকার। যা সংবিধানের প্রস্তাবনা অংশে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

সংবিধানের মূল ভিত্তি: যেহেতু জনগণই যে কোন দেশের সার্বভৌমত্বের মালিক। তাই জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিকে  সংবিধানের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। যাতে আইনের ফাঁক-ফোকর  ব্যবহার করে জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিকে নাকচ করা না যায় এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নামে জনগণের সম্মতি উপেক্ষা করে স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা টিকে থাকতে না পারে।

প্রজাতন্ত্র বনাম জনগণতন্ত্র: দেশ পরিচালনায় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণ বা অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে গণ প্রজাতন্ত্রের পরিবর্তে একটি জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। যেখানে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, উন্নয়ন প্রক্রিয়া, এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ অভিগম্যতায় জনগণের শরিকানা থাকবে।

বাঙালি বনাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন: বাংলাদেশে শুধুমাত্র বাঙালি নয়, অন্যান্য বহু জাতিসত্তার মানুষ বসবাস করে। তাই বাংলাদেশ একটি বহু বহুজাতিক রাষ্ট্র। সেকারণেই আমাদের দেশের নাগরিকদের একমাত্র পরিচয় বাঙালি হতে পারে না। তাছাড়াও আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইন্ডিয়ার পশ্চিম বঙ্গের অধিবাসীদের অধিকাংশই বাঙালি। কিন্তু তারা আমাদের জাতি রাষ্ট্রের অংশ নয়। তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাংবিধানিক প্রাধান্য আমাদের দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর জন্য বঞ্চনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে যা অবশ্যই কাম্য নয়। সেকারণেই সাংবিধানিকভাবে এই বহুজাতিক বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে বাংলাদেশের নাগরিকদের বাংলাদেশী হিসাবে অভিহিত করে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে সংবিধানে সন্নিবেশ করতে হবে।

ভাষার প্রশ্ন: মাতৃ ভাষায় কথা বলা মাতৃ ভাষার উন্নয়ন ,বিকাশ প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। মাতৃ ভাষার মাধ্যমে প্রতিটি জাতিসত্বার  সাংস্কৃতিক বিকাশ প্রসার ঘটে। তাই বাংলাকে আমাদের দেশের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা হিসাবে দেশের জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বার মানুষের নিজস্ব মাতৃ ভাষায় শিক্ষা সংস্কৃতি চর্চার অধিকারকে নিশ্চিত করে ওই সমস্ত ভাষার সংরক্ষণের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

আদিবাসী ক্ষুদ্র জাতিসত্বার প্রশ্ন:evsjv‡`‡k Avmvg, eg, ebvbx, wew`qv, f~wgR, evM`x, শাক (PvK), PvKgv, Wvjy, gvw›` (Mv‡iv), M~L©v (†bcvjx), Kvnvixqv, Lvwm, †Lqvs, L~Ûy, ˆLwÎq, eg©Y, nvRs, L~gx, †KvP, †Kvj, Kg©Kvi, jymvB, gvnvjx, gvnv‡Zv, gv‡jv, gwbcyix, gvigv, gyÛv, g~ivBqvi, †gªv, gyïi, IivI, cvnvb, cvnvwoqv, cvsLy, cvÎ, ivB, ivReskx, iv‡Rvqvi, ivLvBb, mvIZvj, wmsn, Z½¨v wÎcyiv, Z~ix cÖf~wZ 45 wU ¶z`ª RvwZmË¡vi ev Avw`evmx Rb‡Mvwôi emevmতাই সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর মানুষের স্বীকৃতি, বিশেষ করে তাদের প্রথাগত আইনের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে এবং উপজাতি শব্দ পরিহার করে তাদেরকে আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বা হিসাবে উল্লেখ করতে হবে। ভূমি আইনের ক্ষেত্রে তাদের প্রথাগত আইনের প্রয়োগকে নিশ্চিত করতে হবে।

ফেডারেল বনাম এক কেন্দ্রিক সরকার: বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক রাষ্ট্র হলেও দেশের নিরকুশ সংখ্যক মানুষই একই ভাষাভাষী এবং ধর্মের অনুসারী। আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ ব্যতিরেকে অন্য সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীরাও ভাষাগত ভাবে বাঙালি এবং অভিন্ন জাতিসত্বার এবং বৃহত্তর ভাবে একই সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। তাই এধরনের একটি জাতি রাষ্ট্রে ফেডারেল ব্যবস্থা বা প্রাদেশিক কাঠামো বিভেদের বীজ বপন করবে যা আঞ্চলিকতা বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি তৈরি করবে।যার সুযোগ নিয়ে বহি:শত্রু আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে চাইবে। তাই সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের বর্তমান এক কেন্দ্রিক সরকার কাঠামোকে বহাল রাখতে হবে।

ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ: বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশই মুসলমান এবং জাতিগত ভাবে বাঙালি। যা আমাদের দেশ জাতির সংস্কৃতিরও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেননা আমাদের জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় আচার সংস্কৃতিতে রয়েছে হাজার বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্য- সংস্কৃতির প্রভাব। যার মধ্যে রয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ, আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বাসহ নানামুখী সংস্কৃতি। ইসলাম আমাদের ভূখণ্ডে আসলেও তা আমাদের পুরানো সংস্কৃতি,ঐতিহ্যকে পুরোপুরি ধ্বংস না করে এর অনেক কিছুকে আপন করে নিয়েছে। যার মিথস্ক্রিয়ায় বাংলাদেশের এবং বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে নানা ভাবে। তাই রাষ্ট্র এমন কোন আইন-কানুন প্রণয়ন করতে পারবে না, যা এই ৯০ শতাংশ মানুষের ধর্মীয় আবেগ, অনুভূতি, চর্চা সংস্কৃতিকে আঘাত হানে, বাধাগ্রস্থ করে। একই কথা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ রাষ্ট্র কারও ধর্ম পালন চর্চার ক্ষেত্রে বাধার কারণ হবে না। প্রতিটি ধর্মের অনুসারীরা তাদের স্ব-ধর্ম স্বাধীন ভাবে পালন করতে পারবে। কেউ কারো ওপর তার ধর্ম চাপিয়ে দিতে পারবে না বা ধর্মীয় অনুভূতি আবেগে আঘাত করতে পারবেনা।

জাতির পিতা প্রসঙ্গ: কোন একক ব্যক্তি নয়, জনগণের সামষ্টিক উদ্যোগ এবং লড়াই ইতিহাসের নির্মাতা। ইতিহাস নায়ক তৈরি করে। কিন্তু কোন নায়ক একক ভাবে ইতিহাস তৈরি করতে পারে না। স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালে দীর্ঘ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ছিল সেই সামষ্টিক লড়াইয়ের মূর্ত: প্রতীক। যেখানে লাখো শহীদ জীবন দিয়েছেন। আত্মত্যাগ করেছেন আরো অসংখ্য মানুষ। যার নেপথ্য রয়েছে আমাদের শত-শত বছরের লড়াই, সংগ্রামের ধারাবাহিকতা প্রেরণা। তাতে অবশ্যই অনেক জাতীয় রাজনৈতিক নেতার অবদান রয়েছে। তাই বলে আমাদের জাতি রাষ্ট্র গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধকে কোন একক ব্যক্তির অবদান হিসেবে জাহির করার কোন অবকাশ নেই।  সে কারনেই বাংলাদেশের সংবিধানে কোন একক নেতাকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতির প্রশ্নটি অবান্তর।

সেকেন্ড রিপাবলিক বা দ্বিতীয় স্বাধীনতা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের জাতি রাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা হচ্ছে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান। যার মাধ্যমে পতন হয়েছে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের। বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসে কখনো কোন গণঅভ্যুত্থানে ধরনের মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের অংশগ্রহণের ঘটনা ঘটেনি। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন গণঅভ্যুত্থানে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এবং আহত হওয়ার ঘটনা নেই। দুই হাজারের বেশি ছাত্র-জনতার জীবন এবং ৩০ হাজারের বেশি আহতের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই গণভোথ্থনের বিজয়। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু মাত্র ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ই সৃষ্টি করেনি, বরং এটি ছিল আমাদের জাতি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পুন:রুদ্ধারের একটি সচেতন প্রায়াস। সে কারণেই এই প্রায়াসের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা বা সেকেন্ড রিপাবলিক হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।একই ভাবে এই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের জাতীয় বীর এবং নিহতদের শহীদ হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। 

মৌলিক মানবাধিকার প্রসঙ্গ:মানবাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সমূহকে আমাদের নতুন সংবিধানে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। যেমন: নাগরিকত্ব,খাদ্য,বস্ত্র,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,পরিবেশ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জীবনের অধিকার। নির্যাতন, নিপীড়ন, নিবর্তন মূলক আটক ও সকল ধরনের বৈষম্য থেকে মুক্তির অধিকার প্রভৃতি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা: রাষ্ট্র সাংবিধানিকভাবে নাগরিকদের নিজস্ব মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোনভাবেই ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করা যাবে না । তবে ভিন্নমত বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে প্ররোচনা দেয়া যাবে না। জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে এমন কোন বক্তব্য প্রচার, প্রসার প্রকাশ করা যাবেনা।

সভা, সমাবেশ সংগঠন করার স্বাধীনতা: রাষ্ট্র নাগরিকদের সভা-সমাবেশ সংগঠন করার অধিকারকে সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করবে। সম্প্রদায়িক দাঙ্গা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতাআইনগত ভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতাদেশের অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি প্রভৃতি যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোন সভা, সমাবেশ সংগঠন করার অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। উপরোক্ত যৌক্তিক কারণে কোন সভা, সমাবেশ সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসরণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ভাবে মরণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করা যাবে না।

রাষ্ট্র সরকার প্রধানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নির্বাচন পদ্ধতি: রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান নির্বাচিত হবেন। তবে কোনো প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে ৫১ শতাংশ পেতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় দ্বিতীয় দফা এবং প্রয়োজনে তৃতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের সম্মতির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান নিয়োগের অধিকারী হবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনার ভিত্তিতে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়োগ এবং শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ট্রথ কমিশন,মানবাধিকার কমিশনসমতলের আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বা সংক্রান্ত কমিশন,পুলিশ কমিশন, স্বাধীন গণমাধ্যম সংক্রান্ত কমিশন, অডিটর জেনারেল, ন্যায়পাল, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বা জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলসহ  সকল সাংবিধানিক পদের নিয়োগের অধিকারী হবেন একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান। দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ সমূহ রাষ্ট্রপ্রধানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ তিনি হবেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। রাষ্ট্রপতি জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি/হুমকি মোকাবেলায় প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন। তবে সরকার প্রধান এবং তার মন্ত্রিসভা দেশ পরিচালনার স্বার্থে সকল সরকারি দায়িত্ব পালন  এবং বাস্তবায়ন করবেন। নীতি, কৌশল, পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং তদারকি করবেন।

সরকার রাষ্ট্র প্রদানের মেয়াদ: কোন ব্যক্তি দুইবারের বেশি রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না । প্রতিবার তাদের মেয়াদ হবে চার বছর।

উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃজন: সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি একটি উপ-রাষ্ট্রপতির দ সৃজন করতে হবে । রাষ্ট্রপতি অনুপস্থিতে উপ-রাষ্ট্রপতি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি কালীন সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত দায়িত্ব সমূহ পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার একজন রানিংমেট এর নাম ঘোষণা করবেন। রাষ্ট্রপতি এবং উপ-রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল একই হবে।

সংসদীয় ব্যবস্থায় আনু:পাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন: অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন যেন সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম না হয় তা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আবার কোন দল যাতে সারাদেশে সংখ্যার হিসেবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েও সরকার গঠনের ব্যর্থ না হয়। অর্থাৎ আসন ভিত্তিক ফলাফলে কোন দল অধিকাংশ আসন পেয়েও দল বা জোটগত ভাবে সবচেয়ে বেশি ভোট নাও পেতে পারে। সেক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে জনগণের ম্যান্ডেটের সঠিক প্রতিফলন ঘটে না। তাই সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে হবে সাংবিধানিকভাবে আনু:পাতিক প্রতিনিধিত্বের বিধান সংযোজনের মাধ্যমে।

সংসদের মেয়াদ সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বের সীমা: সরকার পরিচালনায় অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদের  মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করতে হবে। একই ভাবে দেশে নতুন- নতুন উদ্যমী নেতৃত্ব তৈরি বিকাশের প্রয়োজনে কোনো ব্যাক্তি যাতে পরপর তিনবারে বেশি সংসদ সদস্য থাকতে না পারে তা সাংবিধানিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

উপ-প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: দেশ যাতে কোন প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব বা স্বৈরাচারে পরিণত না হয় তা  নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সাংবিধানিকভাবে উপ-প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিধান প্রণয়ন করতে হবে। যাতে মন্ত্রিসভায় ক্ষমতার ভারসাম্য থাকে।

সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে  ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন: সংসদে সরকার বিরোধী দলের  ক্ষমতার  ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য সাংবিধানিকভাবে ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলের জন্য সংরক্ষিত থাকবে হবে। যাতে সংসদে সরকারি দল বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করতে না পারে।

সাংসদদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার: বর্তমান সংবিধানের আলোকে কোন সংসদ সদস্য তার দলীয় সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবের বিপক্ষে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন না সংসদ সদস্য পদ হারানোর ভয়ে। তাই সংসদকে প্রাণবন্ত এবং দেশ জনগণের স্বার্থকে দলের উর্ধ্বে প্রাধান্যের প্রয়োজনে স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিকল্প নেই। তবে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কোন ষড়যন্ত্রের ফলে সংসদ সদস্যরা যাতে হর্স ট্রেডিং এর মত কেনা-বেচার পণ্যে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করতে আস্থা/অনাস্থা ভোটে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে অবস্থান নিলে সংসদ সদস্য পদ খারিজের বিষয়টি বহাল রাখা থাকবে।

সদস সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহার প্রসঙ্গ: কোন সংসদ সদস্য যদি জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বা জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নেয় তাহলে ওই সংসদীয় আসনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ভোটারের আবেদন সাপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ওই আসনে পুন:রায় নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণায় সাংবিধানিকভাবে বাধ্য থাকবে। এর ফলে নির্বাচক জনগণের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং তারা জনস্বার্থে কাজ করতে বাধ্য হবেন।

সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গ: সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নারীর ক্ষমতায়নের পরিবর্তে এক ধরনের নারী সুবিধাভোগী এবং রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের তোষামোদকারী সৃষ্টি করেছে। যা  অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থের অপচয়ের। এদের ক্ষমতা, বিত্ত, বৈভব এবং প্রভাবের কারণে অনেক অধিকতর যোগ্য নারী দূরে সরে দাঁড়িয়েছেন রাজনীতি থেকে। তাই সাংবিধানিকভাবে এই সংরক্ষিত আসনের বিধানটি রাখার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। বরং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর ক্ষমতায়ন কিভাবে আরো বাড়ানো যায় তার বিকল্প পন্থার সন্ধান করতে হবে।

না ভোটের প্রচলন: জাতীয় সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে পছন্দ না হলে ভোটাররা না ভোট দিতে পারবেন। না ভোট জয়যুক্ত হলে ওই নির্বাচন বাতিল বলে পরিগনিত হবে। এর ফলে নির্বাচনে যেমন জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে তেমনি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের উপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে।

যুদ্ধাপরাধী, মানবতা বিরোধী, গণহত্যা এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার প্রসঙ্গ: যুদ্ধ অপরাধ, মানবতা বিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে দন্ডিত এবং আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত ব্যক্তি, দল প্রতিষ্ঠানের দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তাই যুদ্ধ অপরাধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে দন্ডিত ব্যক্তি এবং আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত প্রতিষ্ঠান দলকে সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদসহ সকল নির্বাচনে প্রার্থিতার অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সমূহ দুর্বল থাকায় এবং দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, রাজনীতিতে পেশী শক্তির ব্যবহার, প্রশাসন দলীয়করণ এবং কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাসহ নানা কারণে বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এখানে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রায় অসম্ভব। তাই নির্বাচনী ব্যবস্থাকে বিতর্কের ঊর্ধে রাখতে এবং নির্বাচনকে দুর্নীতি দলীয় অবৈধ প্রভাব মুক্ত করতে নির্বাচন কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃবহালের বিকল্প নেই। তাই নতুন সংবিধানের কাঠামোর আওতায় একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযোজন করতে হবে দুটি রাজনৈতিক সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালের জন্য। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানসহ অপরাপর উপদেষ্টারা যাতে অন্তত: পরবর্তী ২ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন এবং কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশ হতে না পারেন তা উল্লেখ থাকতে হবে।

রাজনৈতিক দলের সংস্কার বা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত: একদলীয় শাসন, কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ এবং স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ কল্পে জাতীয় সংসদে আনু:পাতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তও প্রয়োজন। যেখানে সাংবিধানিকভাবে কোন দলের নেতৃত্ব নির্বাচন, জাতীয় সংসদের সদস্য পদের জন্য প্রার্থী নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বা দলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের বিধান থাকবে। অর্থাৎ একক ভাবে দলের প্রার্থী বাছাই কমিটি বা বোর্ড অথবা দলীয় প্রধান নেতা-নেত্রীরা কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।  সংসদ নির্বাচনে কে দলীয় প্রার্থী হবেন তা সংশ্লিষ্ট এলাকার দলীয় সদস্যরাই ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিবেন। যার ফলে দল দেশে গণতন্ত্রের প্রসার ঘটবে। টাকার জোরে প্রার্থিতা কেনার সুযোগ  বন্ধ হবে।একই সঙ্গে যুদ্ধ অপরাধ, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে আদালত কর্তৃক দণ্ডিতদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ রহিত করতে হবে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা: আমাদের দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্থানীয় সররকে পরিণত করা হয়েছে ঠুটো জগন্নাথে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপের কারণে স্থানীয় সরকার গুলো স্বাধীন ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। অথচ সংসদ সদস্যদের কাজ আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমিত থাকার কথা। নতুন সংবিধানে এই অবস্থার অবসানের জন্য স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী এবং স্বায়ত্ব শাসনের বিধান রাখতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার এবং সংসদ সদস্যদের কাজের সীমারেখার নির্ধারণ করে দিতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে সামাজিকভাবে সম্মানিত এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় উন্নয়ন এবং সামাজিক ইস্যু সমূহ নিয়ে কাজ করতে পারেন এবং সামাজিক ঐক্য ধরে রাখতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয় বৃত্তের বাইরে রাখতে হবে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সকল নিম্ন আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের অধীনস্থ করতে হবে। বিচার বিভাগীয় মানদন্ড বা নীতি- নৈতিকতা লঙ্ঘনের বিষয়ে যে কোন অভিযোগের তদন্তের জন্য সাংবিধানিকভাবে কার্যকর জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। এই কাউন্সিলই প্রয়োজনে কোন বিচারক বা বিচারপতির অপসারণের জন্য প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠাবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা নিয়োগ বোর্ড হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য একটি প্যানেল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠাবে। তবে এই প্যানেলে কাদের নাম রয়েছে তা পাবলিলি জানাতে হবে। যাতে নিয়ে সংসদ এবং জনপরিসরে আলোচনা এবং শুনানি হতে পারে এবং কোন অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ না পায়।

মৃত্যুদন্ড বিলোপ: অপরাধের শাস্তি প্রদান করা হয় সংশোধনের জন্য। কাউকে অত্যাচার, নিপীড়ন করার জন্য নয়। মানবাধিকারের প্রেক্ষিত থেকে দেখলে জীবনের অধিকারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা বড় কোন অধিকার হতে পারে না। তাছাড়াও মৃত্যুদন্ড এমন একটি শাস্তি যা কার্যকর হওয়ার পর ভূল হলেও আর সংশোধনের সুযোগ থাকে না। তাই নির্মম, নিষ্ঠুর পৈশাচিক হত্যাকান্ডের মতো ব্যতিক্রমী অপরাধ সমুহ ছাড়া অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে সাংবিধানিকভাবে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের বিধান রহিত করতে হবে। তবে যুদ্ধ অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং সামরিক আদালতের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বহাল থাকবে।

ট্রথ কমিশন:মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর পাঁচ দশক অতিবাহিত হলেও যুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এবং দেশের অভ্যন্তরে কার কোন ভূমিকা ছিল তা নিয়ে আজ অব্দি কোন নির্মোহ, বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন হয়নি। শাসক দল সমূহ তাদের নিজেদের স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নানা ভাবে বিকৃত করেছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশক পরও নতুন প্রজন্মের কাছে এর সঠিক ইতিহাস অজানা।যা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথে একটি অন্তরায়। অপরদিকে ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার ছাত্র, তরুন. যুবক আত্মদান করলেও তাদের অবদানের মর্যাদা এবং স্বীকৃতির পরিবর্তে শুরু হয়েছে নানা বয়ান তৈরির অপচেষ্টা। যা খুবই দুঃখজনক এবং দেশের জন্য আত্মঘাতী।এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের আশু প্রয়োজন হলো সাংবিধানিকভাবে একটি ট্রথ কমিশন গঠন করা।এই কমিশনের কাজ হবে বিকৃতির কবল থেকে সঠিক ইতিহাস উদ্ধার করা। অর্থাৎ ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ এবং ছাত্র-জনতার ২০২৪-এর জুলাই একটি নির্মোহ এবং বস্তুনিষ্ঠু বয়ান তৈরি করা। যা থেকে আমরা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের দিক নির্দেশনা পেতে পারি।

স্বাধীন নির্বাচন কমিশন: সাংবিধানিক ভাবে নির্বাচন কমিশনকে স্বায়ত্ব শাসন দিতে হবে এবং একে অধিকতর শক্তিশালী করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের প্রধান এবং অপরাপর কমিশনারগণকে নিয়োগ প্রদান করবেন। তবে নিয়োগের পূর্বে প্রার্থীদের একটি তালিকা করে তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে এবং জনপরিসরে আলোচনা এবং শুনানি করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সকল নিয়োগের দায়িত্ব একমাত্র তাদেরই থাকবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন বা নির্বাহী বিভাগ কোন হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের দায়িত্ব পালনরত সকল প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের আদেশ, নির্দেশ মানতে সাংবিধানিক ভাবে বাধ্য থাকবে। এক্ষেত্রে যে কোনো অবাধ্যতাকে শাস্তি মূলক: অপরাধ হিসেবে ধার্য করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সময়কালে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী নিয়োগকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণ্য করতে হবে।

স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন: দুর্নীতি দমন রোধে সাংবিধানিকভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন এবং স্বাধীনতা প্রধান করতে হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান এবং কমিশনারগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ পাবেন এবং তারাই কমিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করবেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা বেসরকারি কোন ব্যক্তির দুর্নীতির তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশন যাতে কোন আইনগত বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন না হয় তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতার দায়ে কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। কমিশনের চেয়ারম্যান, কমিশনারগণ, মহাপরিচালক এবং সচিবদের নিয়োগের সময় এবং কমিশনের চাকরির শেষে তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্ষমতা দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশাসনিক ক্যাডারের মত একটি দুর্নীতি দমন ক্যাডার গড়ে তুলতে হবে।

মানবাধিকার কমিশন:বাংলাদেশে একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপস্থিতি থাকলেও তা বাস্তবে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এর প্রধান কারণ হলো এই কমিশনে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সত্যিকারের বিশেষজ্ঞদের অনুপস্থিতি এবং কমিশন প্রদত্ত সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়নের কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকা। সে কারণেই আমলা নির্ভরতার পরিবর্তে মানবাধিকার কর্মী এবং বিষয়ের প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশন গঠন করতে হবে এবং কমিশন প্রদত্ত সুপারিশ সমূহ যাতে আদালত এবং প্রশাসনিকভাবে স্বয়ংক্রিয় ভাবে গৃহীত হয় তার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধের দায়ে কমিশনকে ন্যূনতম তিন বছর সাজা এবং প্রয়োজনীয় অর্থদন্ড প্রদানের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রদান করতে হবে এবং যে সমস্ত ক্ষেত্রে অধিকতর সাজার প্রয়োজন তা সুপারিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা  স্বায়ত্বশাসিত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন: রাষ্ট্র সাংবিধানিক ভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। গণমাধ্যমের  বস্তু নিষ্ঠুতা বিপন্ন হয় এমন কোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গণমাধ্যমের ওপর আরোপ করা যাবে না । গণমাধ্যম প্রকাশনা এবং সম্প্রচারের লাইসেন্স ব্যবস্থা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যতিরেকে অন্য কোন গণমাধ্যমে বিদেশী রাষ্ট্রের মালিকানা থাকতে পারবেনা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোন বাধা আসছে কিনা এবং গণমাধ্যম তার পেশাদারিত্ব রক্ষা করছে কিনা, নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করছে কিনা তা মনিটরিং এর জন্য একটি স্বায়ত্ব শাসিত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন সাংবিধানিকভাবে গঠন করতে হবে। যে কমিশন গণমাধ্যম সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।

সমতলের আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বা সংক্রান্ত কমিশন: পাহাড়ি অঞ্চলের আদিবাসি বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বার মানুষ সঙ্ঘবদ্ধ থাকলেও সমতলের আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বার লোবজন অসংগঠিত এবং অপেক্ষাকৃত ভাবে স্বল্পশিক্ষিত। দেশের প্রচলিত আইন-আদালত সম্পর্কেও তারা যথাযথভাবে অবগত নয়। আবার আমাদের নিম্ন আদালত সমূহেরও এদের প্রথাগত সংস্কৃতি ভূমি অধিকার সম্পর্কে ধারণার ঘাটতি রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর সামাজিক প্রভাবশালী এবং দুর্বৃত্ত তাদের ওপর নানা নিপীড়ন- নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এদের কারণে বেহাত হচ্ছে বহু আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বার মানুষের  জমি, জলা। সে কারণেই এই অবস্থার অবসর কল্পে সামাজিক ন্যায় বিচারের স্বার্থে সাংবিধানিক ভাবে সমতলের আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বার লোকজনের ভূমি বিরোধসহ অপরাপর সমস্যার সমাধানের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। যে কমিশনের রায় এবং সুপারিশ সমূহ আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণ্য হবে।

জাতীয় পুলিশ কমিশন: পুলিশ বিভাগের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দায়িত্ব পালনের অবহেলা রোধে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাংবিধানিকভাবে একটি জাতীয় পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে। যে কমিশন পুলিশ বিভাগের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে পুলিশ বিভাগ আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে এবং যা আদালতের যে কোন মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনার জন্য গৃহীত হবে। পুলিশ বিভাগের যে কোন কাঠামোগত সমস্যা, সংস্কারের  সুপারিশ এবং অভিযোগের সুরাহা এই কমিশন করতে পারবে।

জাতীয় স্বার্থ ভারসাম্য মূলক পররাষ্ট্র নীতি: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল: লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক বৈশ্বিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া। তাই জাতীয় স্বার্থে কোন একক দেশ বা শক্তির প্রতি আনুকল্যের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক পরিসরে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের বিষয়টিকে সাংবিধানিক দিক নির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ থাকতে হবে।

বৈদেশিক চুক্তি তথাকথিত বন্ধু রাষ্ট্রের স্বার্থ: যেহেতু দেশ সার্বভৌমত্বের মূল মালিক জনগণ। তাই সকল দ্বি-পাক্ষিক এবং বহু-পাক্ষিক বৈদেশিক চুক্তি জন সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং তা জাতীয় সংসদ জনপরিসরে আলোচনা এবং শুনানি সাপেক্ষে অনুস্বাক্ষরিত হবে। সাংবিধানিকভাবে জনগণকে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোন চুক্তির সমালোচনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনে প্রতিরক্ষা সংবেদনশীল চুক্তি সমূহের গোপনীয়তা বজায় রাখা যাবে।

প্রতিরক্ষা নীতি প্রসঙ্গ: দেশের সার্বভৌমত্ব ভু-রাজনৈতিক এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং যুগোপযোগিতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। বৈশ্বিক পরিসরে সামরিক প্রতিরক্ষার পরিবর্তিত বাস্তবতার আলোকে সাইবার আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব, প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, কে পি আই সমূহ এবং দেশের সম্পদ রক্ষায় সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী,এবং বিমান বাহিনীর পাশাপাশি একটি সাইবার আর্মি গড়ে তোলার তাগিদ আমাদের নতুন সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

দেশের প্রতিরক্ষায় বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ: বৈদেশিক শক্তির যে কোনো আগ্রাসন মোকাবেলায় শিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক যাদের ন্যূনতম বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর, তাদেরকে ন্যূনতম তিন মাসের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের বিধান সাংবিধানিকভাবে রাখতে হবে।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল: জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো সংকট এবং বিপর্যয় মোকাবেলায় সাংবিধানিকভাবে একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বা জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন করতে হবে। যে কাউন্সিললে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ প্রতিরক্ষা বাহিনী সমূহের প্রধানগণ, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের প্রধানগণ পদাধিকার বলে এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞগণ রাষ্ট্রপতির নিয়োগ সাপেক্ষে সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন। পদাধিকার বলে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বা রাষ্ট্রপতি এই কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। এই কাউন্সিলের প্রধান কে হবেন তা রাষ্ট্রপতিই নির্ধারণ করবেন। কাউন্সিল জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে যে কোন সংকট এবং বিপর্যয় মোকাবেলায় কর্মকৌশল সুপারিশ এবং দিক নির্দেশনা প্রণয়ন প্রদান করতে পারবে। শুনানি করতে পারবে।

মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং দেশীয় আইন: রাষ্ট্র সরকার কর্তৃক অনুস্বাক্ষরিত মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন,কভেনেন্ট ট্রেটিস সমূহ অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সমূহকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশীয় আইন হিসেবে মেনে চলার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ঘোষণা করতে হবে। দেশের বিদ্যমান আদালতের প্রয়োগ এবং প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। যাতে রাষ্ট্র সরকার কর্তৃক অনুস্বাক্ষরিত মানবাধিকার সংক্রান্ত আইন এবং চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগ না হয়। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান আদালতের রায়েও এর প্রয়োগ এবং প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রসঙ্গ:বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিসরে জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। তাই জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট উষ্ণায়ন এবং অপরাপর সমস্যা সমূহ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে উদ্যোগী এবং সোচ্চার হতে হবে। একই সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে; যাতে দেশে তথাকথিত উন্নয়নের নামে জলবায়ু বিধংসী কোন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না হয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

জ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের তাগিদ: বর্তমান যুগকে বলা হয় ডাটা বা তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি এবং জ্ঞান নির্ভর যুগ। তাই সাংবিধানিকভাবে প্রযুক্তি, জ্ঞান, ডাটা বা তথ্যের ক্ষেত্রে দেশের মানুষের অভিগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সাংবিধানিক থাকতে হবে। 

সংবিধান সংশোধনের জন্য উন্মুক্ত রাখা: সংবিধান কোন ধর্মীয় গ্রন্থ যেমন: কোরআন বা বাইবেল নয়, যে তার কোন পরিবর্তন, পরিমার্জন গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সংবিধান হলো একটি ক্রমবিকাশমান দিক নির্দেশনা। জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে যার পরিবর্তন পরিমার্জনই হলো এর শ্বাশত সৌন্দর্য। তাই সংবিধানের কোন অংশকেই অপরিবর্তনীয় ঘোষণা করা অযৌক্তিক এবং জনগণের অভিপ্রায়ের পরিপন্থী।

-------------------------------------------------------------------------------- --------

ফজলুস সাত্তার:লেখক, মানবাধিকার ও ভু-রাজনীতি বিষয় গবেষক, অ্যাডভান্সড ডাটা এনালেটিক্স এবং সাংবাদিক।

 

 

 

No comments:

Featured Post

Geopolitics of the Teesta Water and the Annexation of Sikkim by India

Fazlous Satter The Chinese proverb, "Those who govern the water govern the country," aptly illustrates the significance of river...